চিকিৎসকের অবহেলায় মে’য়ের মৃ’ত্যু, রাত জেগে লা’শের পাহারায় বাবা

চিকিৎসকের অবহেলায়- চিকিৎসকের অবহেলায় নেত্রকোনার আল-নূর হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক প্রসূতির মৃ’ত্যু হয়েছে। রোববার (১২ জানুয়ারি) রাতে সিজা’রিয়ান অ’পারেশনে ছে’লে সন্তান জন্ম দেয়ার পর ওই প্রসূতির মৃ’ত্যু হয়।

এ ঘটনায় চিকিৎসক ও নার্সের অবহেলায় বিষয়টি জানিয়ে রাতেই নেত্রকোনা মডেল থা’নায় অ’ভিযোগ দেন মৃ’তের স্বজনরা। অ’ভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থা’না পু’লিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের বারান্দায় প্র’সূতির ম’রদেহ রাখা হয়েছে। সারারাত ম’রদেহের পাশে ছিলেন স্বজনরা। মৃ’তের বাবা ও স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছে আমাদের। বিষয়টি পু’লিশের ঊর্ধ্বতন কর্মক’র্তাদের জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে আ’ইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সিজা’রিয়ান অ’পারেশনে ছে’লে সন্তান জন্ম দেয়ার পর মা’রা যাওয়া প্র’সূতি নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজে’লার রায়পুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের কৃষক আশিক মিয়ার স্ত্রী’ রোজিনা আক্তার (২৩)।

রোজিনার স্বামী আশিক ও বাবা চান্দু মিয়া জানান, আল-নূর হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজারের সঙ্গে রোববার রাতে ১২ হাজার টাকায় রোজিনার সিজা’রিয়ান অ’পারেশনের চুক্তি হয়। কি’শোরগঞ্জ থেকে আসা চিকিৎসক জীবন কৃষ্ণ সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালে এসে তাড়াহুড়ো করে রোজিনার সিজা’রিয়ান অ’পারেশন করেন।

অ’পারেশনের আগে চিকিৎসক কিংবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং নার্স কেউ বলেননি রো’গীর র’ক্ত লাগবে। অ’পারেশনে ছে’লে সন্তান জন্ম হওয়ার ঘণ্টাখানেক পর প্র’সূতির অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে র’ক্ত লাগবে জানিয়ে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করেন চিকিৎসক জীবন কৃষ্ণ। ততক্ষণে প্র’সূতির মৃ’ত্যু হয়।

এ অবস্থায় রো’গীকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেখানে নেয়ার পর রোজিনাকে মৃ’ত ঘোষণা করেন মেডিকেল কর্মক’র্তা চিকিৎসক টিটু রায়। নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিকেল কর্মক’র্তা চিকিৎসক টিটু রায় বলেন, রোজিনাকে মৃ’ত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। অনেক আগেই তার মৃ’ত্যু হয়েছে।

পরে হাসপাতালের বারান্দায় তার ম’রদেহ রাখা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার রাত ৯টার দিকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের বারান্দায় ওই প্র’সূতির ম’রদেহ রাখা হয়। হাসপাতালের বারান্দায় মে’য়ের ম’রদেহের পাশে বসে সারারাত কাটিয়ে দেন বাবা চান্দু মিয়া।

বাবা চান্দু মিয়া বলেন, চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় রোজিনার মৃ’ত্যু হয়েছে। চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিচার চাই আমি। তাদের প্রত্যেককে আ’ইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। তারা মানুষের জীবন নিয়ে ব্যবসা করে। মৃ’ত্যুর পর ম’রদেহ অন্য হাসপাতালে পাঠায়। আমি তাদের কঠিন শা’স্তি চাই।

তাদের শা’স্তি না হলে রোজিনার মতো আরও অনেক রোগীর মৃ’ত্যু হবে।এ বিষয়ে জানতে আল-নূর হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার এবং কর্তৃপক্ষের ফোন নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি কেউ। ঘটনার পর থেকে চিকিৎসক জীবন কৃষ্ণের মোবাইল নম্বর বন্ধ রয়েছে।