সাহস থাকলে আমাকে সরাও, পুলিশকে তলোয়ার উঁচিয়ে হুমকি মহিলার!

প্রাণঘাতী করোনার বিস্তার রুখতে ‘লকডাউন’ করা হয়েছে পুরো ভারত। দেশটিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। জনগণকে বাইরে বেরুতে নিষেধ করা হয়েছে। এরই মধ্যে উত্তরপ্রদেশে লকডাউন ভেঙে বুধবার সকালে ধর্মসভা শুরু করেছিলেন একদল মানুষ।

খবর পেয়ে সেখানে এসে পড়ে দুই ট্রাক ভর্তি পুলিশ। সে সময় টকটকে লাল শাড়ি পরা এক মহিলা। নিজেকে ‘মা আদি শক্তি’ দাবি করে পুলিশের সামনে এসে দাঁড়ান। পুলিশ গড ওম্যানকে সরে যেতে বলতেই তিনি বের করেন তলোয়ার। এক প্রত্যক্ষদর্শীর মোবাইল ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সেই ছবি। পরে অবশ্য দেখা গেছে, মহিলা পুলিশরা তাকে টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তুলছে।

পুলিশের দাবি, ভক্তদেরও মৃদু লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দেওয়া গেছে। তাদের অনেকে বিহার থেকে এসেছিলেন। মঙ্গলবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশ জুড়ে লকডাউনের নির্দেশ দিয়েছেন। সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং-এর কথাও বলেছেন। সেই নির্দেশ অমান্য করে এদিন সকালে ধর্মীয় সভা করছিলেন গড ওম্যান।

লখনউ থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে দেওরিয়া জেলায় মেহদা পূর্বা অঞ্চলে ওই মহিলা বাস করেন। এদিন তার ধর্মসভায় প্রায় ১০০ জন জড়ো হন। স্থানীয় কোনো বাসিন্দা গোপনে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ঘোষণা করে, আপনারা অবিলম্বে বাড়ি চলে যান। না হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লাঠিচার্জের মুখে ভক্তদের পালাতে দেখা যায়। গড ওম্যানকে যখন পুলিশের গাড়িতে তোলা হচ্ছিল, তাকে বলতে শোনা যায়, আমি নিজের ইচ্ছায় থানায় যাচ্ছি।

ভারতে একের পর এক রাজ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় প্রথম‌ে একদিনের জনতা কার্ফু পালনের ডাক দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এর পরে বিভিন্ন রাজ্য সরকার আলাদা আলাদা ভাবে লকডাউন ঘোষণা করে। তারই মধ্যে গোটা দেশ ২১ দিনের ‌জন্য লকডাউন বলে মঙ্গলবার রাতে জানিয়ে দেন মোদি।

এই লকডাউনের উদ্দেশ্য একটাই–যাতে মানুষের সঙ্গে মানুষের সংস্পর্শ কম হয়। কেউ যাতে কোনও জমায়েত না করতে পারে তার জন্য নজর রাখছে রাজ্য প্রশাসনও।

লকডাউনের জন্য গাইডলাইন প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাতে লকডাউনের সময়ে কী কী খোলা থাকবে, কী কী বন্ধ থাকবে তার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়ার পাশাপাশি লকডাউনের সময়ে কারও মৃত্যু হলে কী ভাবে সৎকার হবে তা নিয়েও গাইডলাইন বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্র। তাতে স্পষ্ট করেই বলা রয়েছে সৎকারের সময়ে কুড়ি জনের বেশি হাজির থাকা যাবে না।

উল্লেখ্য, ভারতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫৬২ জন। মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। ১৩০ কোটি মানুষের দেশ ভারতে করোনা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।