মিঠামইনে কৃষকের ধান কেটে দিলেন ওসির নেতৃত্বে থানা পুলি’শ

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইনে বোরো পাকা ধান নিয়ে করোনা ভাইরাস সংক্র’মণের কারণে শ্রমিক সংকটে দুঃচিন্তা ও আতং’ক বিরাজ করেছে কৃষকের মাঝে ।সারা দেশে লকডাউনের কারণে শ্রমিকের অভাবে ধান কাটতে পারছিলেন না কৃষকরা।এমন খবর পেয়ে এক হতদরিদ্র কৃষক উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের মহিউদ্দিনের জমির পাকা ধান কেটে দিয়েছে মিঠামইন থা’নার ওসি ও তার সহকর্মী গন।

আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের প্রান্তিক কৃষক মহিউদ্দিনের ৫৫ শতাংশ জমির ধান গোপদীঘির বড় হাওরে গিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে কেটে দেন ওসি জাকির রব্বানীসহ ২২ পুলি’শসদস্যসহ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী।

ধানকাটা শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি পুলি’শ সদস্য ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাওরে ধান কাটেন ওসি। এ সময় পু’লিশ ও ছাত্রলীগের ধান কাটায় আসতে উৎসাহিত করেন মিঠামইন থানা অফিসার্স ইনচার্জ ওসি জাকির রব্বানী।

পাশাপাশি করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব রেখে অবস্থানসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

কৃষক মহিউদ্দিন বলেন, বোরো ধান আবাদে জমানো সব টাকা খরচ হয়ে গিয়েছিল। হাতে টাকা না থাকায় সংসার চালাতেও হিমশিম খাচ্ছিলাম। অপরদিকে করোনার কারণে শ্রমিকের অভাবে ধানও কাটা সম্ভব হচ্ছিল না তাঁর।

এমন সময় মিঠামইন থানা পুলি’শ ও ছাত্রলীগের সদস্যরা তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। এ জন্য তাঁদের অনেক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস সংক্র’মণের আশ’ঙ্কায় দেশব্যাপী লকডাউন ও সামাজিক দূরত্ব চলছে। এই অবস্থায় হাওরে ধানকাটার মওসুমে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে।

এছাড়া হাওরে বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এতে উভয় সংক’টে পড়েছেন হাওরের লাখো কৃষক।

এ ব্যাপারে মিাঠামইন থানা অফিসার্স ইনচার্জ ওসি জাকির রব্বানী প্রতিবাদ নিউজকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস সংক্র’মণ প্রতিরোধে আমরা সবাইকে ঘরে থাকার অনুরোধ করছি। তবে, মানুষের সেবায় আমরা বাইরে থাকব। যখন যাঁর প্রয়োজন পড়বে, আমাদের জানালে আমরা তাঁকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব- ইনশাল্লাহ।’