মসজিদে নামাজ পড়ার ফজিলত!

কোরআনে কারীমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন : অতঃপর যখন তোমরা নিরাপত্তা বোধ করবে তখন সালাত যথারীতি আদায় করবে। নিশ্চয়ই সালাত নির্ধারিত সময়ে মুমিনদের এক অবশ্যপালনীয় কাজ। (সূরা নিসা : ১০৩)।

এই ইরশাদে রব্বানী সূরায়ে নিসার ১০৩ নম্বর আয়াতের শেষাংশ। আয়াতটি সালাতুল খাওফের বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। তবে আয়াতের এই অংশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, যখন আপতিত পরিস্থিতি এবং ওযরের হালাত শেষ হয়ে যায় তখন নামাজ স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী যথাযথভাবে আদায় করা জরুরি। কেননা নামাজ হচ্ছে মুমিনের ওপর আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ বিধান। যার সময়ও নির্দিষ্ট এবং পদ্ধতিও নির্ধারিত।

ফরজ নামাজের ক্ষেত্রে পুরুষের জন্য শরীয়তের বিধান হচ্ছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে জামাতের সাথে আদায় করা। কোনো শরয়ী ওযর ব্যতীত মসজিদের জামাত তরক করা জায়েয নেই। কাছাকাছি কোনো মসজিদ না থাকলে চেষ্টা করবে যেন একাকী নামাজ আদায় করতে না হয়; বরং দু-চার জন মিলে জামাত করে নেবে।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন : আমাদের অবস্থা এমন ছিল যে, নামাজ (এর জামাত) থেকে পিছিয়ে থাকত কেবল এমন মুনাফিক, যার নিফাক স্পষ্ট ছিল অথবা অসুস্থ ব্যক্তি। তবে আমরা অসুস্থদেরকেও দেখতাম, দুই ব্যক্তির কাঁধে ভর করে তারা নামাজের জন্য চলে আসত। (সহীহ মুসলিম : ১৪৮৫)।

হযরত ইবনে মাসউদ রা. আরো বলেন : নিঃসন্দেহে রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদেরকে হেদায়েতের তরীকাগুলো শিখিয়েছেন। হেদায়েতের এই তরীকাসমূহের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, যেখানে আযান হয় সেখানে নামাজ আদায় করা। (সহীহ মুসলিম : ১৪৮৫)।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এ-ও ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কাল (হাশরের ময়দানে) ‘মুসলিম’ অবস্থায় আল্লাহর সামনে উপস্থিত হতে চায় তার উচিত এই নামাজগুলো মসজিদে গিয়ে জামাতের সাথে আদায় করা। তারপর তিনি বলেন : কেননা আল্লাহ তোমাদের নবীর জন্য হেদায়েতের পথ সুনির্ধারিত করে দিয়েছেন। আর এই নামাজগুলো মসজিদে জামাতের সাথে আদায় করা এই হেদায়েতের পথসমূহের অন্তর্ভুক্ত। যদি তোমরা ঘরে নামাজ পড়তে থাক যেভাবে পিছিয়ে থাকা লোক (মুনাফিক) ঘরে নামাজ আদায় করে তাহলে তোমরা তোমাদের নবীর পথ ছেড়ে দিলে। আর নবীর পথ ছেড়ে দিলে তো তোমরা গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। (সহীহ মুসলিম : ১৪৮৬)।

হযরত উবাই ইবনে কা‘ব রা. বর্ণনা করেন : একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের নিয়ে ফজরের নামাজ পড়ালেন। অতঃপর বললেন, অমুক কি এসেছে? সাহাবীগণ বললেন, না। জিজ্ঞাসা করলেন, অমুক কি এসেছে? সাহাবীগণ বললেন, না। নবীজী বললেন, নিঃসন্দেহে ফজর এবং ইশা এই দুই নামাজ মুনাফিকদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। যদি তোমরা জানতে এতে কী (পুণ্য ও কল্যাণ) রয়েছে তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এর জামাতে উপস্থিত হতে। আর প্রথম কাতার ফিরিশতাদের কাতারের মর্যাদাতুল্য। যদি এর ফজিলতের ব্যাপারে তোমরা জানতে তাহলে তাতে জায়গা গ্রহণের জন্য আগেভাগে চলে আসতে।

একাকী নামাজ পড়া অপেক্ষা দুই ব্যক্তির নামাজ অধিক উত্তম (পুণ্য ও ফযীলতের কারণ)। দুই ব্যক্তি অপেক্ষা তিন ব্যক্তির নামাজ অধিক উত্তম। জামাতে উপস্থিতির সংখ্যা যত বাড়তে থাকে আল্লাহ তাআলার নিকট তা তত প্রিয়। (সুনানে আবু দাউদ : ৫৫৪; সুনানে নাসাঈ : ৮৪৩)।

অনেক সহীহ হাদীসে এই ফজিলতও এসেছে যে, কোনো ব্যক্তি যদি ঘর থেকে উত্তমরূপে ওযু করে মসজিদের উদ্দেশে রওয়ানা হয় তাহলে প্রত্যেক কদমে তার একটি মরতবা বুলন্দ হয় এবং একটি গুনাহ মাফ হয়। মসজিদে প্রবেশ করার পর যতক্ষণ সে নামাজের অপেক্ষায় থাকে ততক্ষণ তা নামাজে গণ্য হতে থাকে। আর নামাজ শেষ করার পর যতক্ষণ সে ওযু অবস্থায় সেই স্থানে বসে থাকে ফিরিশতাগণ তার জন্য দুআ করতে থাকে- আয় আল্লাহ! আপনি তাকে মাফ করে দিন। আয় আল্লাহ! আপনি তার ওপর রহম করুন। আয় আল্লাহ! আপনি তার তওবা কবুল করুন। (সহীহ বুখারী : ৪৭৭; সহীহ মুসলিম : ১৫০৪)।

আমাদের স্মরণ রাখতে হবে, মুআযযিন ছাহেব আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আহ্বানকারী। আর আযান হচ্ছে, সরাসরি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি মসজিদের জামাতে হাজির হওয়ার দাওয়াত। অতএব যিনি মসজিদে উপস্থিত হন তিনি আল্লাহ তাআলার এই দাওয়াতে লাব্বাইক বলেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে এই সৌভাগ্য নসীব করুন। আমীন।