ক্রিকেটারদের হঠাৎ এ ক্ষোভের কারণ কী?

ক্রিকেট দুনিয়ায় ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের পর ধনী ক্রিকেট বোর্ডের তালিকা করলে চোখে পড়বে বাংলাদেশের নাম। কোটি কোটি টাকা কোষাগারে। অথচ নানা সমস্যায় জর্জরিত সেই দেশের ক্রিকেটারদেরই দাবি দাওয়া নিয়ে নামতে হলো আন্দোলনে। কিন্তু হঠাৎ এ ক্ষোভের পেছনের কারণটা কী?

ক্রিকেটারদের দুখ দুর্দশায় পাশে দাঁড়াতে গঠন করা হয়েছিল ক্রিকেটার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন কোয়াব। কিন্তু বাস্তবে নেই কোনো কার্যক্রম। তাই অবিলম্বে এই সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগ দাবি করেছেন ক্রিকেটাররা।

গেল কয়েক বছরে পাল্টে গেছে প্রিমিয়ার লিগের দলবদল। ক্রিকেটারদের আয়ের উৎস এ লিগ। প্লেয়ার ড্রাফটের মাধ্যমে এখন হয় দলবদল। বেতন নির্দিষ্ট করা থাকে। আগে ক্রিকেটাররা পছন্দ অনুযায়ী ক্লাব ঠিক করতে পারতো। কিন্তু এখন বদলে গেছে সব। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। তাইতো উন্মুক্ত দল বদল চান ক্রিকেটাররা। বেতন হবে হবে আলোচনা সাপেক্ষে।

ক্রিকেটারদের প্রথম শ্রেণির মাচ ফি ৪০ হাজার টাকা। কিন্তু সেটা বাড়িয়ে এক লাখ টাকা চান ক্রিকেটাররা। সেই সঙ্গে ক্রিকেটারদের প্রথম শ্রেণির ম্যাচের দৈনিক ভাতা ১৫০০ টাকা থেকে যৌক্তিকহারে বাড়ানোরও দাবি করেন তারা। কারণ বর্তমানে বিসিবি ক্রিকেটারদের কাছে যে ফিটনেস দাবি করে, তাতে করে এ টাকায় স্বাস্থসম্মত খাবার খাওয়া সম্ভব হয় না। ভালো থাকা-খাওয়ার যে টাকা লাগে সেটাই দাবি ক্রিকেটারদের। এছাড়াও যাতায়াতের জন্য বিমানভাড়ার নিশ্চয়তাও চেয়েছেন তারা।

দেশের ক্রিকেটে গেল কয়েক বছর ধরেই বিপিএল ও প্রিমিয়ার লিগে নিয়মিত বেতন পান না ক্রিকেটাররা। পাওনা টাকা পরিশোধ না করেই শুরু হয় নতুন মৌসুম। কিন্তু এ পরিস্থিতি আর চলতে দিতে চান না না তারা।

বর্তমানে বিসিবির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারের সংখ্যা মাত্র ১২ জন। বিশ্বের অন্যান্য দেশে যা প্রায় তিনগুণ। তাই চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারের সংখ্যা অন্তত ৩০ জন চান ক্রিকেটাররা।

ফ্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের আসর বিপিএল থেকে কাড়ি কাড়ি টাকা আয় করে বিসিবি। কিন্তু দেশীয় ক্রিকেটাররা ন্যায্য পারিশ্রমিক পান না। তবে এ অবস্থা আর চলতে দিতে চান না ক্রিকেটাররা। নিজেদের প্রাপ্য গ্রেডের দাবি তাদের।

এছাড়াও ঘরোয়া ক্রিকেটে ওয়ানডে টুর্নামেন্টের সংখ্যা বাড়ানোসহ দেশীয় কোচিং স্টাফদের বেতন বাড়ানোরও দাবিতেও সোচ্চার ক্রিকেটাররা।